admin
- ৩০ জুন, ২০২৬ / ৫ Time View

তিনি একটি হোটেলে চাকরি করেন। তার কোনো আবাদি জমি নেই এবং তিনি কখনো ধান চাষ করেননি। ধান বিক্রির জন্য আবেদনও করেননি। অথচ ৩ টন ধান বিক্রির তালিকায় তার নাম রয়েছে।
Reading Time: 2 minutes
নাজমুল হোসাইন, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী :
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সরকারি বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রচারণা ছাড়াই অনলাইনে কৃষকদের আবেদন গ্রহণ, আবেদনের সময় শেষ হওয়ার আগেই লটারির মাধ্যমে সুবিধাভোগী কৃষকের তালিকা প্রকাশ এবং প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের সুবিধা করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
সরেজমিনে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচিতে অংশ নিতে ১১ থেকে ২০ মে পর্যন্ত আবেদন গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়। পরে খাদ্য অধিদপ্তর আবেদনের সময় ৫ জুন পর্যন্ত বাড়ালেও উপজেলা পর্যায়ে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে ২৪ মে লটারির মাধ্যমে সুবিধাভোগী কৃষকের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
চলতি মৌসুমে সরকার উপজেলার ৪০০ কৃষকের কাছ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করবে। বাজারমূল্যের চেয়ে সরকারি মূল্য প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে নিজেদের লোকজনের নামে আবেদন করে সুবিধা নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবে উপজেলার ৫৩ হাজার ৮৬৬ জন কৃষকের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৭৪৫ জন আবেদন করেন।
বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কৃষক ফজলার রহমান, পুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কৃষক আবু সায়েম লিটন এবং নিতাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোত্তাকিনুর রহমান আবু বলেন, সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচি সম্পর্কে হ্যান্ডবিল, লিফলেট বিতরণ কিংবা মাইকিং করা হয়নি। বাজারে ধানের দাম কম থাকলেও সরকারি দর বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়েছেন।
গত ১৮ জুন উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে আসা সদর ইউনিয়নের কেশবা মাছুয়াপাড়া গ্রামের তছলিম উদ্দিন ওরফে রাখাল জানান, তিনি একটি হোটেলে চাকরি করেন। তার কোনো আবাদি জমি নেই এবং তিনি কখনো ধান চাষ করেননি। ধান বিক্রির জন্য আবেদনও করেননি। অথচ ৩ টন ধান বিক্রির তালিকায় তার নাম রয়েছে। এ জন্য এক ব্যবসায়ী তাকে খাদ্য গুদামে নিয়ে গিয়ে ৫০০ টাকা এবং পরে ব্যাংকে নিয়ে চেকে স্বাক্ষর করিয়ে আরও ৩০০ টাকা দেন।
এদিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দেওয়া সুবিধাভোগী কৃষকদের তালিকায় থাকা কয়েকজনের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে দেখা যায়, নম্বরগুলো অন্য জেলার ব্যক্তিরা ব্যবহার করছেন। তারা জানান, তাদের নাম বা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।
উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ইকবাল হোসেন বলেন, “৪০০ জনের মধ্যে ১৫০ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ধান বিক্রিকারীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।”
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তৌহিদুর রহমান বলেন, “বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের প্রচারণার জন্য একদিন পুরো উপজেলায় মাইকিং করা হয়েছে।” আবেদনের সময় শেষ হওয়ার আগেই লটারির মাধ্যমে কৃষক তালিকা প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, “লটারির পর খাদ্য অধিদপ্তর আবেদন গ্রহণের সময় বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। একই দিনে আবেদন গ্রহণের সময় বৃদ্ধির চিঠি এবং লটারি—দুটিই হয়েছে।”
এ ঘটনায় প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Post Views: 5